শিলিগুড়িতে এটিএম লুটের ঘটনার তিন দুষ্কৃতি পাকড়াও, ধৃত তিনজনই হরিয়ানায় নুহূ জেলার বাসিন্দা, উদ্ধার তিনলক্ষাধিক টাকা, বাকিদের খোঁজে তদন্তে পুলিশ

কৃষ্ণা দাস
২৪ জুন, ২০২৫

শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে এটিএম লুটের ঘটনায় জড়িয়ে থাকা ‘মেওয়াত গ্যাং’-এর তিন সদস্য ধরা পড়ল পুলিশের জালে। ধৃতরা হরিয়ানার নুহ জেলার বাসিন্দা। উদ্ধার হয়েছে তিন লক্ষাধিক টাকা। তদন্তে পুলিশের ক্ষোভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে।
শিলিগুড়ি, কৃষ্ণা দাস: শিলিগুড়িতে এটিএম লুট করে ভিন রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেলো তিন দুষ্কৃতি। উদ্ধার তিন লক্ষাধিক টাকা। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত। তবে এটিএম লুটের ঘটনায় যতটা তৎপর পুলিশ প্রশাসন ঠিক ততটাই উদাসিনী ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ। এমনই অভিযোগ পুলিশের। ব্যাঙ্কের ভূমিকায় হতাশ পুলিশ। অথচ সাধারণ মানুষের টাকা গচ্ছিত রাখা হয় ব্যাঙ্কের কাছে যাতে তা সুরক্ষিত থাকে। সেই টাকা পয়সা নিয়ে ব্যাঙ্ক এতটা উদাসীন কী করে থাকে তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
গত ১৮ জুন গভীর রাতে শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে গ্যাস কাটার দিয়ে এটিএম কেটে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতির দল। এর আগেও প্রায় একই কায়দায় ময়নাগুড়ি সহ একাধিক জায়গায় এটিএম লুটের ঘটনা ঘটে। পরপর যেভাবে এটিএম লুটের ঘটনা ঘটছে তাতে পুলিশ নিশ্চিৎ কোনো গ্যাঙ মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। যে গ্যাঙে রয়েছে একাধিক সদস্য। ভিন রাজ্য থেকে এই গ্যাঙের এক একটি দল এসে লুটপাট চালিয়ে গা ঢাকা দেয় বিভিন্ন রাজ্যে। তাই গ্যাঙকে পাকড়াও করা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়। শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে এটিএম লুটের ঘটনার পরেই তদন্ত শুরু করে প্রধান নগর থানার পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রকে কাজে লাগিয়ে তদন্ত চালিয়ে যায় প্রধাননগর থানার অ্যান্টি-ক্রাইম শাখা। অ্যান্টি-ক্রাইম ইউনিটের আধিকারিকদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হরিয়ানায় পৌঁছায়। সেখান থেকে একজনকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে শিলিগুড়িতে আনা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে আরও দুজনকে সোমবার সেবক লাগোয়া জঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলো মহম্মদ ইসরাইল, জাভেদ খান ও মহম্মদ খুশিদ। তিনজনই হরিয়ানার নুহূ জেলার বাসিন্দা। এই দুষ্কৃতির দলটি কুখ্যাত ‘মেওয়াত গ্যাং’-এর সদস্য। এই গ্যাং এর মূল কাজই হলো বিভিন্ন রাজ্যে এটিএম ও দোকান লুটপাট চালানো। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এমনটাই জানতে পেরেছে। ওই গ্যাংয়ের আরও কতজন এই ঘটনায় জড়িত এবং চক্রের শাখা প্রশাখা কতদূর বিস্তৃত সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ডিসিপি (ট্রাফিক) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানান, পুলিশের বিভিন্ন শাখা তদন্ত করে দেখে ভিন রাজ্যের একটি গ্যাঙ এসে এখানে অপারেশন চালায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন ভিন রাজ্যে পালিয়ে যায়, কয়েকজন এখানেই থেকে যায়। তদন্ত করার পর পুলিশের একটি দল হরিয়ানা পৌঁছে সেখানে একজনকে গ্রেফতার করে। তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। পাশাপাশি তার মোবাইলের সুত্র ধরে আরও দুজনকে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এবিষয়ে প্রধাননগর থানার আইসি বাসুদেব সরকার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অনেকটাই বেগ পেতে হয়েছে। তার অভিযোগ ব্যাঙ্কের তরফে আশানুরূপ সহযোগিতা মেলেনি। ব্যাঙ্কের অসহযোগিতার ফলে অনেকটাই সমস্যায় পড়তে হয়েছে তদন্তের ক্ষেত্রে। এদিন তিনি ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন।
এদিকে গত রবিবার ভর দুপুরে শিলিগুড়ি শহরের ব্যস্ততম এলাকার একটি নামকরা সোনার দোকানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। চম্পাসারির এটিএম লুটের ঘটনার সঙ্গে ওই সোনার দোকানে লুটের কোনো যোগসুত্র রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।