পুলিশের অভিযানে জাল আধার কার্ড তৈরীর চক্রের পর্দা ফাঁস, গ্রেফতার সাত, উদ্ধার প্রচুর নকল নথি

কৃষ্ণা দাস

১৬ জুন, ২০২৫

শিলিগুড়িতে ফাঁস জাল আধার কার্ড তৈরির বড়সড় চক্র। গোপন সূত্রে পুলিশের ফাঁদে ধরা পড়ল সাতজন। বাংলাদেশীদের ভারতীয় পরিচয় বানিয়ে দিচ্ছিল !একাধিক ভুয়ো নথি—আধার, ভোটার কার্ড, কাস্ট সার্টিফিকেট। উদ্ধার বহু নকল নথিপত্র, চলছে তদন্ত।

শিলিগুড়ি, কৃষ্ণা দাস: অনায়াসেই বাংলাদেশীরা হয়ে যেতো ভারতীয়। আধার কার্ড ভোটার কার্ড এমনকি কাস্ট সার্টিফিকেট তৈরী করতে লাগতো শুধু কিছুটাকা ব্যাস দু চারদিনেই বাংলাদেশীরা হয়ে ইঠতো ভারতীয়। যদিও সমস্ত নথিপত্র জাল। কিন্তু তা বোঝার উপায় নেই কারুর। আর এই জাল নথি যারা বানিয়ে দিত তারা সকলে ভারতীয়। কিছু টাকার বিনিময়ে তারা বাংলাদেশীদের ভারতীয় বানিয়ে দিতে দুবার ভাবত না। তাদের কাছে টাকাটাই হয়ে উঠতো সব। দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নেই কোনো মাথা ব্যথা। তবে সেই চক্রের পর্দা ফাঁস হলো শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশোর অভিযানে।

ক্রেতা সেজে জাল আধার কার্ড চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ । জাল আধার কার্ড সহ জাল নথি বানানোর চক্রের হদিশ শিলিগুড়িতে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে জাল আধার কার্ড তৈরির বড়সড় চক্রের পর্দা ফাঁস হলো। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর নকল আধার কার্ড সহ বিভিন্ন নকল নথিপত্র। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ ঘটনায় একসঙ্গে সাতজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর ছিল
শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায় ঢাকেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন ফকদইবাড়িতে একটি বহুতল বিল্ডিংয়ে জাল আধার কার্ড তৈরি করা হয়। ‌এই খবর পাওয়ার পরই ফাঁদ পাতে পুলিশ। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ, ভক্তিনগর থানার পুলিশ ও আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায় সোমবার প্রথমে পুলিশের একটি দল ক্রেতা সেজে হানা দেয় ওই বহুতল বিল্ডিংয়ের এক ফটো স্টুডিওতে। ‌কয়েক হাজার টাকায় আধার কার্ড তৈরির ডিল হয়। এরপরই বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। হাতেনাতে ধরা হয় চক্রের সাত সদস্যকে। ধৃতরা হলো চিত্তরঞ্জন সরকার, ষষ্ঠী মন্ডল, টিটু দাস, বিশ্বজিৎ রায়, মঙ্গলু সিংহ গৌতম, হরি কিশোর রায় ও আবেশ গুপ্তা।

জানা গিয়েছে, চিত্তরঞ্জন সরকারের ঊষা ডিজিটাল ফটো স্টুডিওতে তৈরি হতো নকল আধার কার্ড, নকল ভোটার কার্ড সহ নকল কাস্ট সার্টিফিকেট। পুলিশের অভিযানে একের পর এক নথি বেরিয়ে আসে। মুলত পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে এখানে তৈরি হতো নকল আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং জাতিগত শংসাপত্র।

এই চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, মুলত বাংলাদেশীদের তৈরি করে দেওয়া হতো এই সরকারি নথি। এখনও পর্যন্ত কাদের কাদের আধার কার্ড ও অন্যান্য নথি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।