মালগাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি কোটি টাকার চোরাই টিক কাঠ, রেলের নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কৃষ্ণা দাস
৫ জুন, ২০২৫
অসম থেকে এনজেপি হয়ে হাওড়ার পথে পাচার হচ্ছিল কোটি টাকার বার্মাটিক কাঠ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে মালগাড়ি থেকে উদ্ধার করে রুখে দিল আরপিএফ ও জিআরপি। রেল দপ্তরের নজরদারি ঘিরে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
শিলিগুড়ি, কৃষ্ণা দাস: পেয়াজের আড়ালে বা বাঁশের আড়ালে, অথবা নিত্য নতুন কায়দায় সড়ক পথে কাঠ পাচারের ঘটনা হামেশাই সামনে আসে। বহু ক্ষেত্রে সেই কাঠ পাচার রুখে দেয় বনদপ্তর। এবার একেবারে ভারতীয় রেলে বড়সড় কাঠ পাচারে ঘটনা। সাম্প্রতিক অতিতে যা অত্যন্ত বিরলতম ঘটনা। সেই পাচার রুখে দিল রেল পুলিশ। পাচারের আগেই উদ্ধার কয়েক কোটি টাকার চোরাই কাঠ। অসম থেকে এই কাঠগুলো এনজেপি হয়ে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিল। তবে কী করে এত বিপুল পরিমাণে কাঠ মালগাড়িতে উঠল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি এতটা পথ রেল দপ্তরের নজর এড়িয়ে এই চোরাই কাঠ নিয়ে কী করে মালগাড়িটি এনজেপি পর্যন্ত আসতে পারলো তা নিয়েও রেলের নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রশ্ন চিহ্নের মুখে। বৃহস্পতিবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসা একটি মালগাড়ির একাধিক কোচ থেকে উদ্ধার হয়েছে এই বিপুল পরিমাণে চোরাই বার্মাটিক কাঠ।
জানা গিয়েছে, মালগাড়িটি অসম থেকে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে মালগাড়িটি পৌঁছতেই যৌথভাবে অভিযান চালায় জিআরপি এবং আরপিএফ।
একটি একটি করে মালগাড়ির ওয়াগন খুলে তল্লাশি চালাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে নিরাপত্তারক্ষীদের। তাতেই দেখা যায় প্রায় প্রতিটি কোচেই দুই থেকে তিনটি করে বার্মাটিক কাঠের লগ রাখা ছিল। সব মিলিয়ে প্রচুর পরিমাণে কাঠ উদ্ধার হয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান।
এই ঘটনায় বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। কীভাবে রেলের নজর এড়িয়ে এত বিপুল পরিমাণ কাঠ মালগাড়িতে তোলা সম্ভব হলো? এছাড়াও অসম থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত দীর্ঘপথ পেরিয়ে মালগাড়িটি এলেও কোনও জায়গায় কী নজরদারির অভাব ছিল না? তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
জিআরপি ও আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।