কংগ্রেসে থেকে পারেন নি, তাই তৃণমূলে যোগদান করে সেটা করে দেখাতে চান দার্জিলিং জেলার বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা শংকর মালাকার, কংগ্রেস ছেড়ে তাই তার তৃণমূলে যোগদান

কৃষ্ণা দাস

৪ জুন, ২০২৫

দূয়ারে বিধানসভা নির্বাচন, তার আগেই কংগ্রেস দলে ধস, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে দুবারের কংগ্রেসের বিধায়ক শংকর মালাকার। তৃনমূলের পতাকা তুলে দিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তৃণমূলে থেকে আগামী দিনে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে বিজেপিকে পরাস্ত করতে পারবেন বলে আশাবাদী শংকর মালাকার।

শিলিগুড়ি, কৃষ্ণা দাস: শিয়রে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল দলকে আরও শক্তিশালী করতে দলবদল শংকর মালাকারের।

উত্তরবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দক্ষিণবঙ্গের মতো সেভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে নি। বিধানসভা নির্বাচন হোক কিংবা লোকসভা নির্বাচন উত্তরবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়জয়কার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে এসে উন্নয়নের ডালি তুলে ধরলেও বিজেপিকে পরাস্ত করতে পারেন নি। যদিও একটু একটু করে বিজেপি দলে ভাঙন ও তৃনমূল দল ইতমধ্যেই অনেকটা শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে।

২৬ শের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে পাখির চোখ ঘাসফুল শিবিরের। সম্প্রীতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ জন বারলা। কলকাতায় তৃণমূল ভবনে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসদের উপস্থিতিতে তিনি ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন। তার কয়েকদিনের ব্যবধানেই বুধবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসদের উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন কংগ্রেস দলের বর্ষীয়ান নেতা শঙ্কর মালাকার। যা কংগ্রেস দলে একটা বড়সড় ধাক্কা। শংকর মালাকারের তৃণমূলে যোগদানের ফলে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল আরও বেশি শক্তিশালী হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে শংকর মালাকারের তৃণমূলে যোগদানের ইঙ্গিত আগেই পেয়েছিল কংগ্রেস দল তাই তাকে সমস্ত পদ থেকে অপসারণ করে দেয় কংগ্রেস। শংকর মালাকর দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি পদে ছিলেন। এর আগে তিনি দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। পরপর দুবার বিধায়ক থাকার পর গত বিধানসভা নির্বাচনে শংকর মালাকার বিজেপির আনন্দময় বর্মনের কাছে পরাজিত হন। এই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক বিজেপির আনন্দময় বর্মণ।

বুধবার শংকর মালাকার তার দীর্ঘদিনের দল কংগ্রেসের মায়া ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ করেন। তার হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এদিন তৃণমূলে পতাকা হাতে নিতেই তৃণমূলের গুনগানে মুখর হয়ে ওঠেন শংকর মালাকার। পাশাপাশি তার পুরোনো দলের তুলোধোনা করতেও ছাড়েন নি। সেই সঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ভাবে বিজেপি দলের কড়া সমালোচনা করেন।

শংকর মালাকারের কথায় ‘এই প্রদেশ কংগ্রেস অযোগ্য। বাংলায় কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বর্তমান প্রদেশ নেতৃত্বের নেই। বিজেপিকে পরাস্ত করতে পারে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল দল।" তিনি জানান, তার সঙ্গে দার্জিলিং জেলার আরও বেশ কিছু নেতৃত্ব এসেছেন। আগামীদিনে কংগ্রেস ছেড়ে তার বহু অনুগামীরা তৃণমূলে যোগদান করবে। এদিন তিনি জোর গলায় বলেন আগামীদিনে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপিকে পরাস্ত করবে তৃণমূল দল।

তার কথায়, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে যে উন্নয়য়ের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে তাকে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা কারুর নেই। তিনি বলেন, "বিজেপির সঙ্গে লড়াই করতে গেলে কংগ্রেস দলে থেকে হবে না। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, "১০ বছর বিধায়ক ছিলাম মানুষের কোনো সেবা করতে পারি নি। কোনো পরিষেবা দিতে পারি নি। ফলে মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি শাসক দলে না থাকলে মানুষকে কোনো পরিষেবা দেওয়া যায় না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃনমূল দলে থেকে কাজ করতে চাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আগামী দিনে তৃণমূল দল শক্তিশালী হয়ে বিজেপিকে নিশ্চিতভাবে পরাস্ত করতে পারবো।"

এদিন অরূপ বিশ্বাস বলেন, বিজেপিতে সুইং আছে অনেক উইকেট আসবে তারজন্য অপেক্ষা করতে হবে।