জাল আধার কার্ড তৈরীর রমরমা কারবার শিলিগুড়িতে, গ্রেফতার দুই

কৃষ্ণা দাস
৩১ মে, ২০২৫

গোপন সুত্রে খবর পেয়ে জাল আধার কার্ড তৈরীর কারখানার হদিশ। গ্রেফতার দুই ব্যক্তি। উদ্ধার প্রচুর পরিমাণে জাল আধার কার্ড ও আধার কার্ড তৈরীর সরঞ্জাম। ধৃতদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন। তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ।
শিলিগুড়ি: কৃষ্ণা দাস:* জাল আধার কার্ড তৈরীর ঘটনায় পুলিশের জালে দুই যুবক। উদ্ধার প্রচুর পরিমানে জাল আধার কার্ড। ধৃতরা হলো সুশীল রায় ও ইন্দ্র নারায়ন চৌধুরী।
শুধু একটি ছবি আর নাম ঠিকানা বলে দিলেই এরা তৈরী করে দিত আধার কার্ড। একেবারে হুবহু কিউআর কোড দেওয়া আধার কার্ড। সাধারণ চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সেই আধার কার্ড আসল, নাকি নকল। শিলিগুড়ি শহরের বুকেই চলছিল এই নকল আধার কার্ড তৈরির রমরমা কারবার। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে সেই আধার কার্ড তৈরীর কারখানায় হানা দেয় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর।
শুক্রবার গভীর রাতে শিলিগুড়ি পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের একটি দল হানা দেয় শিলিগুড়ির টিকিয়াপাড়ার মাতঙ্গিনী কলোনি এলাকার একটি রেল কোয়ার্টারে। ওই রেল কোয়ার্টারে বসেই নকল আধার কার্ড তৈরি করত দুই যুবক। ওই রেল কোয়ার্টার থেকে সুশীল রায় নামে এক যুবককে প্রথমে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর নকল আধার কার্ড। এরপর ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে শিলিগুড়ি শহরের ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পাশে একটি আবাসনে ইন্দ্র নারায়ন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি এই নকল আধার কার্ড তৈরির মূল পান্ডা। এরপর সুশীল রায়কে সঙ্গে নিয়ে হানা দেয় ইন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর বাড়িতে। সেখান থেকে ইন্দ্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইন্দ্রর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রচুর নকল আধার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরীর নানান সরঞ্জাম।
এরপর ধৃত দুজনকে শিলিগুড়ি থানায় নিয়ে এসে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পেরেছেন, মোটা টাকার বিনিময়ে এই নকল আধার কার্ড তৈরি করে দিত ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। আর গ্রাহক ধরার কাজ করতো সুশীল রায়। প্রতি আধার কার্ড পিছু সুশীল রায়কে কমিশন দিত ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। ধৃত দুজনকেই আজ শনিবার শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের বাকিদের খোঁজ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এরা যাদের কাছে আধার কার্ড বিক্রি করেছে, তাদের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা চালাবে গোয়েন্দা পুলিশ।