অ্যাপের ফাঁদে দামি গাড়ি! শিলিগুড়িতে অভিনব প্রতারণা চক্র ফাঁস

কৃষ্ণা দাস

৬ জুলাই, ২০২৫

শিলিগুড়িতে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার নামে অভিনব প্রতারণা! শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধাননগর থানার তৎপরতায় ফাঁস হলো এক আন্তঃরাজ্য চক্র, যারা অ্যাপ ব্যবহার করে দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে তা বিক্রি করত বা পাচার করত নেপাল পর্যন্ত। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার ১৪টি গাড়ি, ধৃত ৪। তদন্তে নেমে পুলিশের অনুমান, চক্রটি ২০০-র বেশি গাড়ি হাতিয়েছে। আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের ইঙ্গিতও মিলেছে।

শিলিগুড়ি, কৃষ্ণা দাস: যেখানে শিলিগুড়ি শহরে একের পর এক চুরি ছিনতাই ডাকাতি সহ নানা ধরনের প্রতারণা চক্রের হদিশ মিলছে। তাতে শিলিগুড়ি শহর রীতিমতো দুষ্কৃতিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতে বড়সড় সাফল্য পেলো শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধাননগর থানার পুলিশ। অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া নিয়ে অভিনব কায়দায় গাড়ি হাতিয়ে নেওয়ার একটা চক্র বেশ কিছুদিন ধরে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই প্রতারণার চক্রের হদিশ পেতে জাল বিছায় প্রধাননগর থানার পুলিশ। এই জালে ধরা পড়ে চক্রের এক সদস্য। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধাননগর থানার পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের মূল অভিযুক্ত সোমনাথ মুখার্জি৷ সোমনাথ কলকাতার বাসিন্দা হলেও শিলিগুড়ির চম্পাসারি এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে গত দু’বছর ধরে থাকতে শুরু করে। আর সেখান থেকেই এই অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছিল অভিযুক্ত। প্রথমে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর নাগরাকাটা থেকে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা হলো পাপ্পু ঝা, নিতেন প্রধান ও রাজ নার্জিনারি।

রবিবার প্রধাননগর থানার আইসি বাসুদেব সরকার জানান, অভিযুক্তরা বিভিন্ন অ্যাপস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে দামি গাড়ি ভাড়া নিতো। তাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে ২-৩ দিনের ভাড়া মিটিয়ে দিত। তারপর চলতো আসল খেলা। পরে সেই ভাড়া নেওয়া দামি গাড়ি একেবারে জলের দরে বিক্রি করে দিতো কিংবা কাউকে লিজে দেওয়া হতো। সম্প্রতি প্রধাননগর থানার পুলিশ এরকম অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযানে নামে। পুলিশের এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৪টি গাড়ি উদ্ধার হয়েছে — যার মধ্যে ৯টি নাগরাকাটা থেকে এবং ৫টি শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া যায়। তবে পুলিশের মতে, চক্রটি আরও বড়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ১০০ থেকে ২০০টিরও বেশি গাড়ি এভাবে হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। তার মধ্যে কিছু গাড়ির GPS সিগনাল পাওয়া গিয়েছে নেপাল সীমান্তে। নেপাল পুলিশও কয়েকটি গাড়ি উদ্ধার করেছে বলে প্রধাননগর থানার পুলিশ জানতে পেরেছে। পুলিশের ধারণা এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ‌