গ্যারাজের আড়ালে ভেজাল মদ তৈরীর কারবার, কোটি কোটি টাকার ভেজাল মদ তৈরির সামগ্রী উদ্ধার সহ গ্রেফতার দুই।

কৃষ্ণা দাস
২ জুন, ২০২৫


আবগারি দপ্তরের বড়সড় সাফল্য।একইদিনে জলপাইগুড়ি ও ফুলবাড়িতে আবগারি দপ্তরের জোড়া অভিযান। উদ্ধার ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকারও বেশি মুল্যের নকল মদ তৈরীর কাঁচামাল। যা নকল মদ তৈরীর কারবারীদের বড়সড় আঘাত। গ্রেফতার দুই ব্যক্তি। এই কারবারের সঙ্গে আরও কে বা কারা যুক্ত তদন্তে আবগারি দপ্তর৷
শিলিগুড়ি, কৃষ্ণা দাস: শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে একইদিনে জোড়া অভিযানে ব্যাপক সাফল্য পেলো আবগারি দপ্তর। নকল মদের বাজারে বড়সড় ঝাকুনি আবগারি দপ্তরের। উদ্ধার কোটি কোটি টাকার নকল মদ তৈরীর সামগ্রী।
মুলত, নামি কোম্পানির লেবেল লাগানো বোতল, চকচকে কর্ক, ব্র্যান্ডেড স্টিকার লাগিয়ে নকল মদকে নামী দামি কোম্পানির দেশী ও বিদেশী মদ বলে বাজারে বিক্রির রমরমা কারবার চলছিল শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ীর একটি গ্যারাজ থেকে। কিন্তু বাইরে থেকে দেখে কারুর বোঝার উপায় নেই ওই গ্যারেজের ভিতরে কি হচ্ছে। কিন্তু আবগারি দপ্তরের নজর ছিল বেশ কিছুদিন থেকেই। অপেক্ষা করা হচ্ছিল বিপুল পরিমানে সামগ্রী মজুতের৷ সোমবার সেই অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ। আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা দুটি দলে ভাগ হয়ে জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়িতে সদলবলে হানা দিয়ে নকল মদ তৈরীর কারবারের পর্দা ফাস করল। কোটি কোটি টাকার নকল মদ তৈরীর সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করল আবগারি দপ্তর যা নকদ মদ তৈরীর কারবারিদের বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
আবগারি দপ্তরের হানায় এদিন শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের দেশি-বিদেশি মদ তৈরির কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করেছে আবগারি দপ্তর। ঘটনায় দুই ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। ধৃতরা হলো সুব্রত মণ্ডল ও সঞ্জয় মণ্ডল। এই দুই ব্যক্তি এই নকল মদ তৈরীর কারবারের চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে আবগারি দপ্তর।
সোমবার একদিকে শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন ফুলবাড়ি ক্যানেলের কাছে ও জলপাইগুড়ির চটকিয়াভিটা এলাকায় অভিযান চালায় আবগারি দপ্তর। জলপাইগুড়িতেও উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে ভেজাল মদ তৈরির সামগ্রী। তার মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, ফ্লেভারিং এজেন্ট, বোতল, কর্ক সহ আরও কিছু সামগ্রী। তবে জলপাইগুড়িতে কেউ গ্রেফতার হয় নি। তবে ফুলবাড়ি থেকে গ্রেফতার দুই ব্যক্তি।
আবগারি দপ্তরে উত্তরবঙ্গ শাখার কমিশনার সুজিত দাস জানান, এই দুই জায়গা থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছিল নকল মদ, যার ওপর লেখা থাকত দেশী ও বিদেশি নামকরা ব্র্যান্ডের নাম। এই কারবারের সঙ্গে আরও কে বা কারা জড়িত তা জানতে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আবগারি দপ্তর।