‘হাত’ ছেড়ে ‘ঘাসে’ ভরসা, রাজপথে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন শংকর মালাকারের

কৃষ্ণা দাস

৬ জুন, ২০২৫

দুইবারের প্রাক্তন বিধায়ক শংকর মালাকার অবশেষে ঘরবদল করলেন। কংগ্রেসে দীর্ঘদিন কাটিয়ে এবার তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন তিনি। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী হয়ে উঠেছেন শংকর। রাজকীয় অভ্যর্থনায় বরণ করে নিল তাঁর অনুগামী ও ঘাসফুল শিবির।

শিলিগুড়ি, কৃষ্ণা দাস: হাত চিহ্নে তার দীর্ঘদিনের পথ চলা। রাজনীতির ছন্দপতনেও তাঁকে টলাতে পারে নি। রাজ্যে টিম টিমে শিখার মতো কংগ্রেস দল জ্বলতে থাকলেও দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্র থেকে তিনি জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। দুবার তিনি এই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন। কংগ্রেস দলকে আগলে রেখেছিলেন প্রাণপনে। কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে পরাস্ত করে বিজেপি। বিজেপির আনন্দময় বর্মনের কাছে তিনি পরাজিত হন। তৃতীয়বারের বিধায়কের স্বপ্ন তার স্বপ্নই রয়ে যায়। তারপরেও বহুদিন তিনি কংগ্রেস দলেই ছিলেন। দার্জিলিং জেলার কংগ্রেস দলের সভাপতি পদে আসিন ছিলেন শংকর মালাকার।

আসন্ন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। শংকর মালাকার দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতি করেন। তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকা তার হাতের তালুর মতো চেনা। তিনি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারেন কংগ্রেস দলে থেকে তিনি আর বিধায়কের আসনে বিরাজমান হতে পারবেন না। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও অনপক চেষ্টা করেও দার্জিলিং জেলায় থাবা বসাতে পারে নি। শিলিগুড়ি কেন্দ্র হোক বা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিজেপির জয়জয়াকার সর্বত্র। এই জেলায় একা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে বিজেপিকে পরাস্ত করা যে বেশ চাপের তা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারে তৃণমূল। তাই তাঁরা গুটি সাজাতে শুরু করে।

শংকর মালাকারের অনুগামীর সংখ্যা শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকায় নেহাত কম নয়। তাই একটি মাছকে ছিপে গাঁথতে পারলেই অনেকটা মুশকিল আসান। এদিকে একপ্রকার পা বাড়িয়েই রেখেছিলেন শংকর মালাকার। বহুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল তাঁকে নিয়ে। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবশান ঘটিয়ে গত বুধবার কলকাতা গিয়ে অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন শংকর। সেই থেকে শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়া এলাকায় তাঁর অনুগামী সহ এই এলাকার তৃণমূল দলের কর্মী সমর্থকরা অধীর আগ্রহে তাঁর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। শুক্রবার কলকাতা থেকে বিমানে বাগডোগরা ফিরতেই বাজনা বাজিয়ে ফুলের মালা পড়িয়ে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান শংকর মালাকারের অনুগামীদের পাশাপাশি তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। সকলের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে আপ্লুত শংকর মালাকার।

হুডখোলা গাড়িতে করে বাগডোগরা থেকে এলাকার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করেন। পথে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে প্রচুর অনুগামীরা ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। তাঁর এই রাজকীয় অভ্যর্থনার জন্য শংকর মালাকার সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তাঁর কথায় তৃণমূলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে এবার বিজেপিকে তাঁরা পরাস্ত করবেন। তবে কী আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী হতে চলেছেন শংকর মালাকার। এই প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গেলেও সেই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও যায় না। এখন দেখার শংকর মালাকারের তৃতীয়বারের বিধায়কের স্বপ্ন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে কতটা সফল হয়।