আম পাড়াকে কেন্দ্র করে নৃশংস ঘটনা, বৌদির মুন্ডু কেটে থানায় আত্মসমর্পণ চন্ডাল দেওয়র

কৃষ্ণা দাস
৩১ মে, ২০২৫
এক হাতে কাটা মুন্ডু, অন্য হাতে ধারালো অস্ত্র। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভরতনগরে ঘটে গেল গা শিউরে ওঠা নৃশংস খুন। আম পাড়া নিয়ে বিবাদের জেরে বৌদির মাথা কেটে থানায় আত্মসমর্পণ যুবকের। পুলিশের প্রশ্ন, শুধুই পারিবারিক ঝামেলা?
বাসন্তি, কৃষ্ণা দাস: এক হাতে ধারালো অস্ত্র আর অন্য হাতে কাটা মুন্ডু। এই অবস্থাতেই রাস্তা দিয়ে হনহনিয়ে হেটে চলেছে এক ব্যক্তি। তার পেছনে কৌতুহলি হয়ে অনেকে ক্যামারেটা ছবি তুলতে থাকে। অথচ নির্বিকার ওই যুবক। রাস্তায় মন্দির পড়তেই সেখানে সটান প্রণাম করে যুবক। পাড়া প্রতিবেশিরা প্রথমটায় দেখে বুঝতে পারে নি। হাতে কী সত্যিই কারুর কাটা মুন্ডু নাকি কোনো খেলনা। কিন্তু ভালো করে দেখেই শিউরে ওঠেন সকলে। শনিবার সকালে এমনই হাড় হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর (Basanti) ভরতগড় গ্রামের বাসিন্দারা। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে হইচই পড়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে পারিবারিক বচসার জেড়ে এমন ঘটনা ঘটায় যুবক। ওই যুবকের নাম বিমল মন্ডল। যার কাটা মুন্ডু নিয়ে ঘুরছিল যুবক সে সম্পর্কে যুবকের বৌদি হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে বৌদির মাথা ধর থেকে আলাদা করে দেয় যুবক। মৃতার নাম সতী মণ্ডল। ঘটনাটি দক্ষিণ চব্বিশ পরগবার বাসন্তি থানার ভরতনগর এলাকার। ওই কাটা মুন্ডু নিয়েই থানায় আত্মসমর্পণ করে যুবক। ভরতনগর তানার পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করে। আরও জানা গিয়েছে, নিহত সতী মণ্ডলের স্বামী অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। দেওরের সঙ্গে প্রায়শই জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিবাদ লেগে থাকত। এদিন আম পাড়া নিয়ে বচসা হয়। সেই বচসা চরমে উঠলে অভিযুক্ত যুবক নিজের বৌদির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। নৃশংসভাবে বৌদির মাতা ধর থেকে আলাদা করে দেয়। পরে পুলিশ মুন্ডুহীন মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এমন ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা তা নিয়ে সন্দিহান পুলিশ। শুধুই কি পারিবারিক বিবাদ নাকি এমন নৃশংস ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।